সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং কিছু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাটি দেখে পুরনো কিছু স্মৃতি নাড়া দিল। সরকারি অফিসে দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে ২০১৬ সালে একটি জাতীয় পত্রিকায় কলাম লিখেছিলাম। কেবিনেট ডিভিশন লেখাটি গুরুত্বের সাথে সব সরকারি সংস্থা প্রধান ও ডিসিদের কাছে পাঠিয়েছিল| কিন্তু মুখ্য সচিব ভীষণ চটে গেলেন, ভীত হইনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি, মিল্ক ভিটা, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিপিডিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর, বাখরাবাদ গ্যাস লিমিটেড, বিআইডব্লিউটিএ, বিএসটিআই, দুদক ও বিজ্ঞান জাদুঘর সহ বিভিন্ন সেক্টরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করেছি, "শুধু অবকাঠামোগত আধুনিকতা কিংবা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা দিয়ে সুশাসন আসবে না । দায়িত্বে অবহেলা সরকারি দপ্তরে মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অচল যন্ত্রপাতি সচল করা সহজ, কিন্তু অচল মানুষ সচল করা কঠিন !
সরকারি অফিসে নৈতিকতার প্রাথমিক অনুষঙ্গ, যথাসময়ে উপস্থিতি, অথচ অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেমও মানা হচ্ছে না | ঈদের ছুটির ঠিক আগের কর্মদিবসে এবং ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে দেখুন, কত সংখ্যক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি ! কেবলমাত্র ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবা সেক্টরেই শৃঙ্খলা দৃশ্যমান।
বেতন, বোনাস, ছুটি, পদোন্নতি পেয়েও দায়িত্ব অবহেলার জন্য আমাদের বিবেক দংশিত হয় না। শুধু ঘুষ না খাওয়াই কি সততা ? অনিয়ম-অবহেলা দেখে নিশ্চুপ থাকা ‘বুদ্ধিভিত্তিক দুর্নীতি’। কর্তব্যে অবহেলার জন্য শুধু তিরস্কার, পদাবনতি বা বরখাস্তের শাস্তি প্রদান “গাড়ি ওভারহোলিং” করার সমতুল্য| দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) থাকাকালীন আমরা সরকারের কাছে একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম, দায়িত্বে অবহেলার কারণে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি কিংবা জনভোগান্তি প্রমাণিত হলে কর্মকর্তাদের জরিমানা করা হোক, কিন্তু কার্যকর হয়নি । তবে এর সফল প্রয়োগ করেছিলাম 'মিল্ক ভিটা'-য় | অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জন্য বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে শুধু চাকরিচ্যুতই করা হয়নি, বরং লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলাম।
পরিবেশ অধিদপ্তরে নদী দূষণের ঘটনা উদ্ঘাটন করতে কারখানাগুলোতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনাকালে দেখতাম, বর্জ্য পরিশোধনাগার বন্ধ রেখে কত বেপরোয়াভাবে নদীতে ও কৃষি জমিতে বিষাক্ত পানি ফেলা হচ্ছে! নদী দূষণ, পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ চুরি, খাদ্যে ভেজাল, তেল চুরি কিংবা গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে বিদেশী জাহাজের বর্জ্য ফেলার মতো white-collar criminality হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে । গভীর রাতে জনস্বাস্থ্য বিধ্বংসী এক ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা স্মৃতিতে ভাসছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রাত ২টায় এক গোডাউনে ১০ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ জমাট বাঁধা গুড়া দুধের এক বিশাল চালান আটক করেছিলাম, যা’ গুড়ো করে ভালো দুধের সাথে মেশানো হচ্ছিল।
‘গতানুগতিক কর্তব্য পালন’ এবং ‘কাজের প্রতি ভালোবাসা’— এক নয়। Inspection is a miracle. That miracle can bring revolutionary change in governance. But Inspection is not the sole responsibility of the Prime Minister alone, it’s symbolic. But message implies that it’s the sacred responsibility of the Ministers, Secretaries, Head of the Organisations /Offices and certainly indispensable responsibility of all the Public Officials.

0 মন্তব্যসমূহ